
পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রেস কনফারেন্স শুরু করেছিলেন বিরাট কোহলির প্রতি তাঁর প্রশংসা প্রকাশের মাধ্যমে, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের মুগ্ধ করেছিল। প্রতিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড়ের প্রশংসা না করে সংবাদমাধ্যমের সামনে বসে থাকা সহজ নয়। তবে পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানের জন্য, বিরাট কোহলিকে কুর্নিশ জানানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যিনি দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজকদের প্রায় টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিশ্চিত করে দেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কোহলি ছিলেন বাজে ফর্মে, এমনকি তার দলে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল বারবার। তবে, ম্যাচে তিনি সবাইকে চমকে দেন দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনীতে, পাকিস্তানের বোলারদের চারিদিকে হাঁকিয়ে দেন শট।
বিরাটের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, রিজওয়ানের অকুণ্ঠ প্রশংসা
বিরাট কোহলি দুর্দান্তভাবে ফর্মে ফিরলেন, ১১১ বলে অপরাজিত ১০০ রান করে। সাতটি চারের ঝলকানিতে ভরা ইনিংসটি ছিল প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য এক উপভোগ্য মুহূর্ত। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি আরও একটি রেকর্ড গড়লেন—সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ১৪,০০০ রান করা ব্যাটসম্যান হলেন তিনি।
পাকিস্তানের পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হওয়া মোহাম্মদ রিজওয়ান শুধু বিরাটের অসাধারণ ব্যাটিং নয়, তার দুর্দান্ত ফিটনেসেও মুগ্ধ হন। ৩৬ বছর বয়সেও ভারতীয় তারকার এমন শারীরিক সক্ষমতা তাকে বিস্মিত করেছে। মিডিয়ার প্রশ্নবাণে জর্জরিত রিজওয়ান প্রথমেই সব কিছু থামিয়ে বিরাটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি বলেন, বিরাট আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
“প্রথমেই বিরাট কোহলির কথা বলি। আমি তার কঠোর পরিশ্রম দেখে অবাক। সে নিশ্চয়ই অনেক পরিশ্রম করেছে। বিশ্ব বলে সে ফর্মে নেই, কিন্তু সে এমন বড় ম্যাচে আসে, যা পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করে দেখার জন্য, আর সহজেই বল মারতে শুরু করে—এবং আমরা তাকে রান দিতে চাই না। কিন্তু সে খেলে এবং আমাদের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয়,” সংবাদ সম্মেলনে বলেন রিজওয়ান।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অবশ্যই তার ফিটনেস এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করব। কারণ সে একজন ক্রিকেটার, আমরাও ক্রিকেটার। আমরা তাকে আউট করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে ম্যাচটা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নিল। পুরো বিশ্ব বলছিল সে ফর্মে নেই, কিন্তু সে এই বড় ম্যাচেই দেখিয়ে দিল নিজের সামর্থ্য।”
এদিকে, পাকিস্তানের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে রিজওয়ান অকপটে স্বীকার করেন যে তাদের দল তিনটি বিভাগেই ব্যর্থ হয়েছে।
“ম্যাচ নিয়ে বলতে গেলে, হারের পর হতাশা আসবেই। কারণ যখন আপনি হারেন, তখন কঠিন সময় আসে, কঠিন প্রশ্ন উঠে আসে। তবে সামগ্রিকভাবে দেখলে, আপনি বলতে পারবেন না যে কোনো একটি বিভাগে ভুল হয়েছে, শুধুমাত্র আবরারের বোলিংকে বাদ দিলে। তার বোলিং ছিল এই ম্যাচের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। আমরা কোনো একক ভুল করিনি, বরং তিনটি বিভাগেই ভুল করেছি। আর এই কারণেই আমরা ম্যাচটি হেরেছি,” বলেন রিজওয়ান।
এই টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের ফলে পাকিস্তানের শিরোপা রক্ষার স্বপ্ন এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। তাদের ভাগ্য এখন বাংলাদেশের হাতে। সোমবার রাওয়ালপিন্ডিতে যদি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়, তাহলে পাকিস্তানের সামনে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আরেকটি সুযোগ থাকবে।